
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাগুরা শহরের বেবিপ্লাজা মার্কেটে এক রাতেই ছয়টি দোকানে চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দোকানগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামাল না নিলেও চোরের দল নগদ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
এর আগের রাতেও বেবিপ্লাজার অদূরে শিমুল স্টোরে সাটারের তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিমুল স্টোরটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রায় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। পরপর দুই রাতে পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে একাধিক চুরির ঘটনায় শহরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাগুরা শহরে ঘন ঘন লোডশেডিংকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে চোর ও দুষ্কৃতকারীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেবিপ্লাজা থেকে প্রায় ৫০ গজের মধ্যে থানা এবং প্রায় ১০০ গজের মধ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকে রাতের নিরাপত্তা ও টহল তৎপরতা চলমান থাকার পরও এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পরপর চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তার এত কাছাকাছি থেকেও চোরেরা কীভাবে এতটা নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পাচ্ছে?
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু চুরি হওয়া অর্থ বা মালামালের ক্ষতি নয়, এ ধরনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটে চুরির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পরও উদ্বেগে থাকছেন।
এ অবস্থায় লোডশেডিংয়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বিশেষ পুলিশি টহল, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।